২০২২ সালের এস.এস.সি ৭ম-সপ্তম সপ্তাহের কৃষি শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান উত্তর SSC

১০ম দশম শ্রেণির কৃষি শিক্ষা ৭ম সপ্তাহ এসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ – এসএসসি পরীক্ষা অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২

২০২২ সালের এসএসসি ৭ম  সপ্তাহের কৃষি শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান, ২০২২ সালের এস.এস.সি অ্যাসাইনমেন্ট, ২০২২ সালের এসএসসি অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর, ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার এসাইনমেন্ট, ২০২২ সালের এসএসসি অ্যাসাইনমেন্ট, ২০২২ সালের এসএসসি অ্যাসাইনমেন্ট, ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার এসাইনমেন্ট, ২০২২ সালের এসএসসি অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

স্তর: এসএসসি পরিক্ষা ২০২২

বিভাগ: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা;

বিষয়: কৃষি শিক্ষা

বিষয় কোড: ১৩৪

মোট নম্বর: ১৬

অ্যাসাইনমেন্ট নম্বর: ০১

“বসত বাড়িতে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগীর খামারে সম্পূরক খাবার প্রযােগের একটি প্রতিবেদন।

তারিখঃ ২৫ আগষ্ট, ২০২১ খ্রি.

বরাবর,

প্রধান শিক্ষক

…… উচ্চ বিদ্যালয়,

ঢাকা।


বিষয়ঃ “বসত বাড়িতে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগীর খামারে সম্পূরক খাবার প্রযােগের একটি প্রতিবেদন।

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আপনার আদেশ নং জা.ই.উ.বি.৩৫৫-১ তারিখ ২৪/০৮/২০২১ অনুসারে উপরােক্ত বিষয়ের উপর আমার স্বব্যখ্যাত প্রতিবেদনটি নিন্মে পেশ করলাম।

১) সম্পূরক খাদ্যের পরিচিতিঃ

যে খাবার ছয় প্রকার খাদ্য উপাদান পরিমিত পরিমাণে সরবরাহ করে তাক সুষম খাবার বলা হয়। শ্বেতসার বা শর্করা, আমিষ বা প্রােটিন, চব্বি বা তেল, খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি হলাে আবশ্যকীয় খাদ্য উপাদান। বাজারে বিক্রির জন্য চালের খুদ, গমের ভূষি, চালের কুড়া, খৈল ইত্যাদি মিশিয়ে হাঁস-মুরগির খাদ্য তৈরি করা হয়ে থাকে।

সুষম খাদ্যঃ

  • ক) শরীরে শক্তি ও কাজ করার ক্ষমতা দেয়।
  • খ) শরীরের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করে।
  • গ) শরীরকে রােগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।


গবাদিপশুর খাদ্যকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

যথাঃ

১. ছােবড়া বা আঁশজাতীয় খাদ্য ও

২. দানাদার খাদ্য।


সম্পূরক খাদ্যের উৎসঃ

গবাদিপশু ও পাখির সম্পূরক খাদ্য তৈরির জন্য বিভিন্ন ধরনের খাদ্য উপাদান ব্যবহার করা হয়। উৎসের উপর ভিত্তি করে এসব উপাদানকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন নিম্নে এদের কিছু উদাহরণ দেওয়া হলােঃ

১) উদ্ভিদজাতঃ উদ্ভিদজাত খাদ্য উপাদানের মধ্যে কিছু উল্লেখযােগ্য উপাদান হচ্ছে- খড়, ভুসি, কুঁড়া, চাল, গম ও ডালের মিহিভুসি, গম, ভুটা, বার্লি, সরগাম, খুদ, খৈল, কুঁড়া, ভুসি, তিলের খৈল, আটা, চিড়াগুড়, খুন্দিপানা গম, খৈল, গাছের পাতা, ঘাস, আগাছা, রান্না ঘরের উচ্ছিষ্ট ইত্যাদি বিভিন্ন নরম পাতা যেমন- মিষ্টিকুমড়া, কলাপাতা, বাঁধা কপি ইত্যাদি।

২) প্রাণিজাতঃ প্রাণিজাত কয়েকটি খাদ্য উপাদান হচ্ছে ফিসমিল, ব্লাডমিল, ফেদার মিল ইত্যাদি। এ ছাড়াও গবাদি পশুর খাদ্যে খনিজ উপাদান হিসাবে কিছু ঝিনুকের শুঁড়া, ডিমের খােসার গুঁড়া, হাড়ের শুঁড়া প্রভৃতি, ভিটামিন হিসাবে পাতাজাতীয় সবজি, ভিটামিন মিনারেল পরি হিসেবে কিছু এন্টিবাযােটিক, হরমােন প্রভৃূতি প্রযােজন হয়।

৩) সম্পূরক খাদ্যের উপকারিতাঃ

১) নিয়মিত সম্পূরক খাবার সরবরাহ করলে অধিক হাঁস,মুরগীর ডিম পাওয়া যায় এবং গাভীর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

২) বাঁচার হার বেড়ে যায়।

৩) রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৪) অল্প সময়ে বড় আকারের সুস্থসবল করা যায়।

৫) দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি পায়

৬) পুষ্টির অভাবজনিত রােগ থেকে মুক্ত থাকে।

৭) স্বোপরি কম সময়ে অধিক আর্থিক মুনাফা পাওয়া সম্ভব হয়।


পশু পাখির সম্পূরক খাদ্যের প্রকারভেদ:

সম্পূরক খাদ্যের প্রকারভেদ মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে এরকম বহুসংখ্যক দ্রব্য আমাদের দেশে রয়েছে। খাদ্য ও শক্তি এবং আমিষের পরিমাণের ভিত্তিতে সম্পূরক খাদ্যের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। যথা- অধিক শক্তি সম্পূর্ণ খাদ্য ও কম শক্তি সম্পন্ন খাদ্য। উদাহরণস্বরূপ বলানা যায় বিভিন্ন ধরনের শস্যদানায় অপেক্ষাকৃত কম পরিমাণে আমিষ থাকে, কিন্তু এগুলাে অধিক পরিমাণে শক্তি উৎপাদন করে। আবার অনেক খাদ্যে উৎপাদন অপেক্ষাকৃত বেশি পরিমাণে আমিষ থাকে, যথা-টিস্যু মিল, ফিস মিল ইত্যাদি।

৪) পশু পাখির সম্পূরক খাদ্যের প্রকারভেদ:

পশু পাখির সম্পূরক খাদ্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ

১) প্রাকৃতিক সম্পূরক খাদ্য ও

২) কৃত্রিম সম্পূরক খাদ্য বা তৈরি খাদ্য।

উৎস অনুযায়ী প্রাকৃতিক সম্পূরক খাদ্যকে আবার দু’ভাগে ভাগ করা হয়।

যথাঃ

ক) উদ্ভিদ খাদ্য ও

খ) প্রাণিজ খাদ্য।


পশু পাখির সম্পূরক খাদ্য তৈরি ও প্রযােগঃ

গাে-খাদ্যে সম্পূরক খাদ্য হিসাবে ইস্ট একটি অত্যন্ত কার্যকরী আদর্শ উপাদান। এই ইস্ট গরুর দানাদার খাদ্য সাপ্লিমেন্টারী হিসাবে যদি আমরা যােগ করি তাহলে পরিমিত পরিমাণ দানাদার খাদ্য গরুকে সরবরাহ করে গরুর জন্য অধিক পৃষ্টি আমরা নিশ্চিত করতে পারি যা দুধ এবং মাংসনা দুটিরই উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে।


ইস্টঃ ইস্ট একপ্রকার এককোষী ছত্রাক। বেশির ভাগ ইস্ট উচ্চ শ্রেনীরম অ্যাসকোমাইসিটিস এর অন্তর্ভুক্ত। এই ইস্ট থেকে প্রাপ্ত উৎসেচক জাইমেজই খাদ্যে ফারমেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়া চালিয়ে হাই স্টাচ খাদ্য থেকে সর্বাধিক পুষ্টি নিশ্চিত করে। তাছাড়াও এই ইস্ট গরুর রুমেন বা পাকস্থলীতে গিয়ে গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আহরিত খাদ্যগুলাে থেকে আঁশ বা ফাইবার জাতীয় খাদ্য গুলাে হজম শক্তি বাড়ায়,নাইট্রোজেন ইয়েন্ড বৃদ্ধির মাধ্যমে অধিক আমিষ বা প্রােটিনের নিঃসরণ ঘটায়,হাই স্টাচ খাদ্য থেকে এলকোহলের নিঃসরণ ঘটিয়ে হজম প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।

আবার এই ইস্টই গরুর পাকস্থলীতে PH মডিউলেশনের মাধ্যমে হাই স্টাচ বা কা্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য গ্রহনের ফলে সৃষ্ট এসিডিটি নিয়ন্ত্রণ করেম যা এসিডােসিস রােধ করে। তবে ইস্ট ব্যবহারের একটি মাত্রা আছে। ১০০ কেজি লাইভওয়েটের একটা গরুকে অনায়াসে ৩-৪ গ্রাম ইস্ট দানাদার খাদ্যে সরাসরি সরবরাহ করতে পারেন,হােক সেটা দুধাঁলাে গাভী বা ষাঁড়। ধরুন,আপনি একটা ৩০০ কেজি, লাইভওয়েটের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ গরুর খাদ্যে অনায়াসে ১২-১৫ গ্রাম, ইস্ট সরাসরি মেশাতে পারেন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে একটা বিষয় অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে দেখবেন, ইস্ট জাতে ভালাে মানের হয়।

গর্ভবতী গাভীর খাদ্যঃ গভ্ভবতী গাভীকে খাদ্য প্রদানের নিয়ম আমাদের অনেকেরই জানা নেই। গাভীর সুস্থতা এবং সৌন্দর্য নির্ভর করে খাদ্যেরম ওপর। তাই গাভী গর্ভবতী হলে নিয়ম অনুযায়ী খাবার দিতে হয়। কারণ, ভাল খাবার খাওয়ালে গাভীর পেটের বাছুর সুস্থ ও ভালাে হয়।


গাভীকে খাদ্য প্রদানের নিয়ম সম্পর্কে-

গর্ভবতী গাভীকে খাদ্য প্রদানের নিয়মঃ গভ্ভরবতী গাভীকে প্রতিদিন ১৪-১৫ কেজি সবুজ ঘাস,৩-৪ কেজি খড়, ২-৩ কেজি দানাদার খাদ্য একসঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। 

গর্ভবতী গাভীর দানাদার খাদ্যঃ দানাদার খাবারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।


উপাদান হচ্ছেঃ

গমের ভূষি- ১ কেজি।

খেসারি ভাঙা- ১ কেজি।

খৈল- ২৫০ গ্রাম।

চাউলের গুড়া- ৫০০ গ্রাম।

চিটাগুড়- ১৫০ গ্রাম।

খনিজ মিশ্রণ- ৫০ গ্রাম।

লবণ- ৫০ গ্রাম।


হাঁস-মুরগির সম্পূরক খাদ্যঃ বাংলাদেশে গ্রামীণ পরিবেশে ছাড়া অবস্থায় যেসব হাঁসমুরগি পালা হয় সেগুলাে নিজেরা যতটুকু সম্ভব খাবার খায় এবং এদেরকে শুধুমাত্র চালের কুঁড়া সরবরাহ করা হয়। এতে হাঁস-মুরগি পুষ্টিহীনতায় ভােগে। এছাড়া খামারে খাবার উপযুক্ত মাত্রায় সরবরাহ না করলেও হাঁস-মুরগি পুষ্টিহীনতায় ভােগে। ফলে হাঁস-মুরগি থেকে কাঙ্খিত

ফলন যেমনঃ ডিম,মাংস পাওয়া যায় না। এজন্য এদেরকে ৬টি পুষ্টি উপাদান (শর্করা, আমিষ, চবি, ভিটামিন, খনিজ, পানি) সমৃদ্ধখাবার হিসেবে সরবরাহ করা হয়। এটাই হাঁস-মুরগির সম্পূরক খাদ্য। সম্পূরক খাদ্যে দানা জাতীয় ও আঁশ জাতীয় খাদ্য রাখতে হয়।


নিম্নে বাড়ন্ত ও লেয়ার মুরগির সম্পূরক খাদ্যের তালিকা দেখানাে হলােঃ

৮-১৬ সপ্তাহ বয়সের বাড়ন্তমুরগির জন্য (উপাদান -পরিমাণ): গম ভাঙানা ৫০ ভাগ, গমের ভুসি ১০ ভাগ ,চালের কুঁড়া ১৬ ভাগ, শুটকি মাছের গুড়া ৯ ভাগ তিলের খৈল ১২ ভাগ, ঝিনুকের গুঁড়া ২.৫ ভাগ লবণ ০.৫ ভাগ, মােট ১০০ ভাগ।

১৬ সপ্তাহ বয়সের বেশি লেয়ারের জন্য (উপাদান -পরিমাণ): গম ভাঙা ৪৬ ভাগ, গমের ভুসি ১০ ভাগ, চালের কুঁড়া ১৫ ভাগ, শুটকি মাছের গুঁড়া ১০ ভাগ, তিলের খৈল ১৫ ভাগ ঝিনুকের গুঁড়া ৩.২৫ ভাগ, লবণ ০.৫ ভাগ,ভিটামিন মিনারেল ০.২৫ ভাগ, মাট ১০০ ভাগ।


প্রযােগ পদ্ধতিঃ প্রতিটি লেয়ারকে দৈনিক ১১০-১২০ গ্রাম খাদ্য দিতে হবে। সঙ্গে ভিটামিন ও খনিজ মিশ্রণ দিতে হবে।


প্রতিবেদকের নামঃ —-

প্রতিবেদনের শিরােনামঃ বসত বাড়িতে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগীর খামার

সম্পূরক খাবার প্রযােগের একটি প্রতিবেদন

প্রতিবেদন তৈরির স্থানঃ ঢাকা

তারিখঃ ২৪.০৮.২০২১ ইং

 

আরও পড়ুনঃ


বিশেষ সতর্কতা: উপরোক্ত নমুনা উত্তরগুলো দেওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য হল, শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত বিষয়ের উপর ধারণা দেওয়া। ধারণা নেওয়ার পর অবশ্যই নিজের মত করে এসাইনমেন্ট লিখতে হবে। উল্লেখ্য যে, হুবহু লেখার কারণে আপনার উত্তর পত্রটি বাতিল হতে পারে। এ সংক্রান্ত কোন দায়ভার Dorbinnews24 -এর নয়।

আমাদের কাজের মধ্যে কোন প্রকার ভুল ত্রুটি দেখা গেলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানান। প্রতি সপ্তাহের সকল বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন। আমাদের কাছ থেকে ন্যূনতম সাহায্য পেয়ে থাকলে আপনাদের অন্যান্য বন্ধুদের সাথে ওয়েবসাইটটিকে ফেসবুকে শেয়ার দিতে পারেন।

ঘরে বসে অনলাইনে কিভাবে টাকা উপার্জন করবেন ফ্রীতে –How to make money online from home CLICK HERE IT’S FREE

Leave a Reply