এসআইকে মোটরসাইকেল চালকের চড়

 তল্লাশি চৌকিতে এসআইকে মোটরসাইকেল চালকের চড়, গ্রেফতার ৬

অভিযোগ করা হয়েছে যে একজন মোটরসাইকেল আরোহী লকডাউনে ডিউটি ​​করার সময় জয়পুরহাটের বিএডিসি মোড়ের একটি চেকপোস্টে ট্রাফিক পুলিশের উপ-পরিদর্শককে (টিএসআই) চড় মারেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামী সন্তু ইসলাম ২৮ সহ ছয়জনকে আটক করে। জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর জাহান শুক্রবার দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে সদর থানায় ১০-১২ অন্যান্য অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। জয়পুরহাট ট্রাফিক পুলিশের উপ-পরিদর্শক আবুল কাশেম মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জয়পুরহাটের বুলুপাড়া গুছগ্রাম মহল্লার ফকির মাহমুদের ছেলে সন্তু ইসলাম (২৮), জয়পুরহাটের সাহেবপাড়ার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে রাজীব পান্না, ২৮ বছর বয়সী, সাগর আহমেদ, রূপনগর মহল্লার সোলায়মান আলীর ছেলে, সাহেবের ছেলে মহল এর প্যার ইসলাম, একই মহল্লার শহিদুল ইসলামের ছেলে শুভ ইসলাম (৩২), গুলশান মোড় এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে আশিকুর রহমান (২৬)। এর মধ্যে সন্তু ইসলামের বিরুদ্ধে চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আমি মোটরসাইকেলটি থামিয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে সন্তু ইসলাম আমাকে গালে চড় মারেন। আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি।
জাহিদুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক, জয়পুরহাট ট্রাফিক পুলিশ



আরও পড়ুন:

 

জয়পুরহাট সদর থানা ও মামলার বিবৃতি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী ‘অল-আউট লকডাউন’-এর দ্বিতীয় দিন জয়পুরহাটের বিএডিসি মোড়ের চেকপোস্টে ট্রাফিক পুলিশের উপ-পরিদর্শক (টিএসআই) জাহিদুল ইসলাম ডিউটিতে ছিলেন। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে। টার দিকে হেলমেটবিহীন এক ব্যক্তি নীল রঙের হিরো গ্ল্যামার মোটরসাইকেলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় জাহিদুল ইসলাম মোটরসাইকেলটি থামিয়ে চালকের নিবন্ধন এবং অন্যান্য নথি দেখতে চেয়েছিলেন।

তখন মোটরসাইকেল চালক নিজেকে সন্তু ইসলাম বলে পরিচয় দিয়ে নথিগুলি প্রদর্শন করতে অনীহা প্রকাশ করেন। লকডাউনের সময় তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে যেতে পারতেন বলেও পুলিশের সাথে তর্ক হয়।

একপর্যায়ে এসআই জাহিদুল ইসলাম সন্তু ইসলামের কাছে তার মোটরসাইকেলের চাবি চান। সন্তু রেগে গিয়ে জাহিদুল ইসলামকে গালে চড় মারল। সন্তু ইসলাম পরিস্থিতিটি অদ্ভুত বলে দেখেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে বন্ধুদের জানান। তারপরে তারা মোটরসাইকেলে ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। তারা ট্রাফিক পুলিশের সাথে দুর্ব্যবহার করে এবং সন্তু ইসলামকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তারপরে টিএসআই আবুল কাশেম উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করেন। এরপরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সন্তু ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিল।

ট্রাফিক পুলিশের উপ-পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি মোটরসাইকেলটি থামিয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে সন্তু ইসলাম আমাকে গালে চড় মারেন।” এতে হতভম্ব হয়ে পড়ি। ‘

জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর জাহান জানান, ট্রাফিক পুলিশকে মারধর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আটজন নামের দশজনকে নিয়ে ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাফিক পুলিশের এসআই আবুল কাশেম এ মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে। পলাতকদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সন্তু ইসলামের বিরুদ্ধে চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।


আরও পড়ুনঃ

 
সূত্র: প্রথমআলো

Leave a Reply