২০২২ সালের এইচএসসি সমাজকর্ম ৫ম-পঞ্চম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট সমাধান- উত্তর HSC

২০২২ সালের এইচএসসি সমাজকর্ম ৫ম-পঞ্চম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট সমাধান- উত্তর HSC

২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার এসাইনমেন্ট সমাজকর্ম, ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার এসাইনমেন্ট উত্তর, ২০২২ সালের এইচএসসি অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান, ২০২২ সালের এইচএসসি অ্যাসাইনমেন্ট বাংলা সমাধান, ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার এসাইনমেন্ট বাংলা, ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার এসাইনমেন্ট গণিত, ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার এসাইনমেন্ট ২য় সপ্তাহ, ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার এসাইনমেন্ট গনিত

 

সমাজকর্মের ক্ষেত্রগুলোকে চিহ্নিতকরণ পূর্বক এটি পাঠে ব্যাক্তি,দল ও সমষ্টির উন্নতির সম্ভাব্যতা নিরুপণ।



উত্তরঃ 
সমাজকর্মের ধারণাঃ সমাজকর্ম হচ্ছে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর একটি সাহায্যকারী ও সক্ষমকারী পেশা, যা সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টি তথা মানুষকে এমনভাবে সাহায্য করে যাতে মানুষ তার বস্তুগত ও অবস্তুগত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেই নিজেদের সমস্যা সমাধানে সক্ষম হয়ে উঠে। সমাজকর্ম ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সম্পদ ও অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগ্রত করে এবং সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। 
তাই সমাজকর্মকে empowering পেশা হিসেবে অভিহিত করা হয়। আধুনিক শিল্পসমাজের বহুমুখী ও জটিল সমস্যা মােকাবিলার জন্য সমাজকর্ম পেশার উদ্ভব হয়েছে। যদিও পেশাদার তথা আধুনিক সমাজকর্মের শিকড় প্রথিত রয়েছে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সহানুভূতি ও ধর্মীয় অনুপ্রেরণায় পরিকল্পিত সেচ্ছাসেবী সমাজসেবা কার্যক্রম ও প্রচেষ্টার মধ্যে।
সমাজকর্ম একটি বিজ্ঞান ও কলা, যা ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা মােকাবিলায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত কর্মকাণ্ড পরিচলিত করে। শিল্পভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা জটিল থেকে জটিলতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে সমাজকর্ম পেশার আবির্ভাব হয়েছে। সমাজকর্ম সামাজিক বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা যার সূচনা ও বিকাশ একদিনে হয়নি। বস্তুত সর্বজনীন মানবমর্যাদা ও মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে মানবকল্যাণ নিশ্চিতকরণ প্রচেষ্টার একটি অংশ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান, মনােবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, নৃ-বিজ্ঞান, মনােচিকিৎসাসহ বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার জ্ঞান ও দক্ষতার সমন্বয়ে সমাজকর্ম একটি সমন্বিত ব্যবহারিক সামাজিক বিজ্ঞান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। 
শিল্পবিপ্লবােত্তর সময়ে মানুষের জীবনযাত্রার সামাজিক ও অর্থনৈতিক গতিশীলতার পাশাপাশি সৃষ্টি হয় মনাে-সামাজিক সংকট ও সমস্যা। এই সংকট ও সমস্যা ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করলে প্রচলিত সমাজকল্যাণ ও সমাজসেবা অপ্রতুল, অপর্যাপ্ত ও অকার্যকর হয়ে উঠে। 
এই প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর সাহায্য ও সেবামূলক ব্যবস্থা গড়ে তােলার প্রয়ােজনীয়তা দেখা দেয়। এর ফলশ্রুতিতে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও দক্ষতা নির্ভর পেশাগত কর্মকাণ্ড হিসেবে সমাজকর্মের সূচনা হয়। ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম সমাজকর্মের সূত্রপাত হলেও আমেরিকায় পেশাদার সমাজকর্মের ধারণা, পদ্ধতি ও কৌশল পূর্ণতা লাভ করেছে। সমাজকর্মের বিকাশে যারা বিশেষ অবদান রেখেছেন তাঁরা হলেন জ্যান এডামস (Jane Addams-১৮৬০-১৯৩৫), ম্যারী এ্যালেন রিচমণ্ড (Mary Ellen Richmond-১৮৬১-১৯২৮) এবং উইলিয়াম হ্যানরি বিভারিজ (William Henry Beveridge-১৮৭৯-১৯৬৩)। 
সমাজকর্ম মূলত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ভর একটি পেশাগত কর্মকাণ্ড, যা মানুষকে তার সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতার সংরক্ষণ, সমৃদ্ধিকরণ, উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধারে সক্রিয় ও সক্ষম করে অনুকূল সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা পালন করে।
সমাজকর্মের পরিধিঃ সমাজকর্মের পরিধি বলতে সাধারণত সমাজকর্মের অনুশীলন বা প্রয়ােগক্ষেত্রকে (fields of social work practice) বােঝায়। সমাজকর্মের ব্যবহারিক বা প্রায়ােগিকদিক নিয়েই এর পরিধি নির্ধারিত হয়। পেশা হিসেবে সমাজকর্ম মানুষকে তার পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকরভাবে আন্তঃক্রিয়ায় সাহায্য করে, তাই এর পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। এ প্রসঙ্গে R. A. Skidmore এবং M. G. Thackeray বলেন, “ বৃহৎ দৃষ্টিকোণ হতে সমাজের অধিক সংখ্যক মানুষের দৈহিক, মানসিক, আবেগীয়, আধ্যাত্মিক ও আর্থিক প্রয়ােজনপূরণ এবং কল্যাণ সাধনই সমাজকর্মের অন্তর্ভূক্ত। 
”(Social work, in a broad sense, encompasses the well being and interests of large number emotional, spiritual and economic needs.) অন্যদিকে মণীষী Elizabeth Wickenden বলেন, “ সমাজকর্মের অন্তর্ভুক্ত হলাে সেসব আইন, কর্মসূচি, সুযােগ-সুবিধা ও সেবামূলক কার্যক্রম, যেগুলাে জনগণের কল্যাণের জন্য স্বীকৃত মৌলিক প্রয়ােজনাদি পূরণের নিশ্চয়তা বিধান বা জোরদার ও উত্তম সামাজিক শৃংঙ্খলা রক্ষায় নিয়ােজিত। ” 
(Social Work includes those laws, programs, benefits and services which assure or strengthen provisions for meeting social needs recognized as basic to the wellbeing of the population and the better function of the social order.) 37715781 Catatto frei State Boards of Charities, Charity Organization Society (COS) 472 Settlement House Movement কর্যক্রমগুলাে কতগুলাে ধারা (dimensions) যেমন- যত্ননির্ভর (caring), প্রতিকারধর্মী (curing), পরিবর্তনমূলক (changing), সেবামূলক (servicing) ও ক্ষমতায়নমূলক (empowering) সংযুক্ত করেছে, যা সমাজকর্মের ক্ষেত্রকে বিস্তৃত ও ব্যাপক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। 
সমাজকর্মের অন্তর্ভুক্ত বিষয় হচ্ছে মানুষ ও তার পরিবেশ (environment) এবং এমনকি প্রতিবেশ (ecology), যা মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। সমাজ ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে সমাজকর্ম আলােচনা করে থাকে। সামাজিক সমস্যার স্বরূপ, প্রকৃতি, কারণ ও প্রভাব বিশ্লেষণে প্রয়ােজন সামাজিক গবেষণা। তাই সমাজকর্মের বিস্তৃত পরিধির আওতায় সামাজিক গবেষণা অন্তর্ভুক্ত। সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ সমাজকর্মের অন্যতম লক্ষ্য। 
সামাজিক নীতি নির্ধারণ ও পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ব্যতীত সামাজিক সমস্যা মােকাবিলা করে সামাজিক উন্নয়ন আনয়ন সম্ভব নয়। এজন্য সামাজিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার সঠিক বাস্তবায়ন সমাজকর্মের পরিধিভুক্ত। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, সমাজ সংস্কার, সমষ্টি উন্নয়ন, সংশােধনমূলক কার্যক্রম ও মানব সম্পদ উন্নয়ন সমাজকর্মের।
আওতাভুক্তঃ  সমাজকর্মের পরিধি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে Brenda DuBois এবং Karla KrogSrud Miley (১৯৯২) তাঁদের ” Social Work: An Empowering Profession ” গ্রন্থে উল্লেখ করেন, পরিবার ও শিশুদের সেবা (family and children’s services), স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন (health and rehabilitation), মানসিক স্বাস্থ্য (mental health), তথ্য ও প্রেরণ (information and raferral), জীবিকাভিত্তিক সমাজকর্ম (occuption social work), কিশাের ও অপরাধী সংশােধন (juvenile and adult corrections), 
বয়স্ক বা প্রবীণ সেবা (gerotogical services), স্কুল সমাজকর্ম (school social work), বাসস্থান (housing), আয় নির্বাহ (income maintnance) এবং সমষ্টি উন্নয়ন (community development) হচ্ছে সমাজকর্মের প্রধান অনুশীলনক্ষেত্র। আমেরিকার জাতীয় সমাজকর্মী সমিতি (NASW) প্রকাশিত Encyclopedia of Social Work- এ সমাজকর্মের নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে:
১.মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরােধ ও চিকিৎসা সেবা (Services for control, prevention and treatment of drug addiction).
২. বয়স্ক সেবা (Services for aging).
৩. শিশু ও পরিবার কল্যাণ সেবা (Child and family welfare services). 
৪. সমষ্টির কল্যাণ ও মানবসেবা পরিকল্পনা (Community welfare and planning human for services).
৫. অপরাধ ও কিশাের অপরাধী সংশােধন সেবা (Correctional services for crime and delinquency).
৬. প্রতিবন্ধী ও দৈহিক প্রতিবন্ধী সেবা (Services for disability and physical handicap).
৭. সমাজকর্ম পেশার উন্নয়নে শিক্ষা সেবা (Educational services for professional development of social work).
৮. পরিবেশ এবং সামাজিক পরিকল্পনা (Environment and social planning).
৯. পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা পরিকল্পনা (Family planning and population planning).
১০. পরিবারিক সেবা পারিবারিক শিক্ষা, পরামর্শ (Family services- family life education, counseling).
১১. স্বাস্থ্য সেবা- কমিউনিটি মানসিক স্বাস্থ্য, প্রজনন পরামর্শ, স্বাস্থ্য ও হাসপাতাল পরিকল্পনা, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য), জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি (Health services- community mental health, genetic counseling, health and hospital planning maternal and child health, public health program).
১২. গৃহায়ন ও গৃহকেন্দ্রিক সেবা (Housing and home maker services).
সমাজকর্ম শিক্ষার প্রয়ােজনীয়তা: সমাজকর্ম হচ্ছে মানুষকে সামাজিক ভূমিকা পালনে সক্ষম করে তােলার অভিপ্রায়ে প্রতিশ্রুতিশীল একটি বহুমুখী পেশা। মানবজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা হতে অর্জিত জ্ঞানের সমন্বয়ে গঠিত সমাজকর্ম হচ্ছে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, পেশাগত মূল্যবােধ ও দক্ষতাভিত্তিক ব্যবহারিক সামাজিক বিজ্ঞান। সমাজের জটিল ও বহুমুখী সমস্যার প্রতিকার, প্রতিরােধ ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সমাজকর্ম শিক্ষা ও তার প্রয়ােগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। 
বর্তমান বিশ্বের বহুমুখী সমস্যার বৈশিষ্ট্য, প্রকৃতি, কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে যথাযথ অনুসন্ধান করে সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের বস্তুনিষ্ঠ জ্ঞানের গুরুত্ব উল্লেখযােগ্য। সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে সমস্যা মােকাবিলায় বাস্তবমুখী ও যুগােপযােগী নীতি, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সমাজকর্মের জ্ঞান বিশেষভাবে উপযােগী। 
সনাতন বদন্যতা নির্ভর সমাজকল্যাণ ব্যবস্থায় মানুষের সমস্যার সাময়িক ও তাৎক্ষণিক সমাধানে চেষ্টা চালানাে হয়। এতে করে প্রকৃতপক্ষে মানুষের সমস্যার কোনাে সমাধান হয় না বললেই চলে। অন্যদিকে আধুনিক সমাজকর্ম টিমওয়াক অ্যাপ্রােচের (team work approach) মাধ্যমে উপযােগী পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়ােগ করে মানুষের সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী সমাধানে প্রচেষ্টা চালায়। 
তাই বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে সমাজকর্ম শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়ােজনীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দারিদ্র্য, জনসংখ্যাস্ফীতি, নিরক্ষরতা, মাদকাসক্তি, পারিবারিক বিশৃংখলা, অপরাধ, কিশাের অপরাধ, মানব পাচার, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যার কার্যকর মােকাবিলায় সমাজকর্ম শিক্ষার প্রয়ােজনীয়তা রয়েছে।
সনাতন বদন্যতা নির্ভর সমাজকল্যাণ ব্যবস্থায় মানুষের সমস্যার সাময়িক ও তাৎক্ষণিক সমাধানে চেষ্টা চালানাে হয়। এতে করে প্রকৃতপক্ষে মানুষের সমস্যার কোনাে সমাধান হয় না বললেই চলে। অন্যদিকে আধুনিক সমাজকর্ম টিমওয়াক অ্যাপ্রােচের (team work approach) মাধ্যমে উপযােগী পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়ােগ করে মানুষের সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী সমাধানে প্রচেষ্টা চালায়। তাই বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে সমাজকর্ম শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়ােজনীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
দারিদ্র্য, জনসংখ্যাস্ফীতি, নিরক্ষরতা, মাদকাসক্তি, পারিবারিক বিশৃংখলা, অপরাধ, কিশাের অপরাধ, মানব পাচার, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যার কার্যকর মােকাবিলায় সমাজকর্ম শিক্ষার প্রয়ােজনীয়তা রয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশসমূহে চিকিৎসা, আইন, প্রকৌশল প্রভৃতি পেশার মতাে সমাজকর্ম পেশাকেও গুরুত্ব দেয়া হয়। সেসব দেশে সমাজকর্মে ডিগ্রিধারীরা রেজিষ্ট্রেশন ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত হয়ে সমাজকর্মের পেশাগত অনুশীলন করেন; যা সমাজকর্ম শিক্ষার প্রয়ােজনীয়তাকেই তুলে ধরে। 
বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকে এখন পর্যন্ত ইউরােপ, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সমাজকর্মে উচ্চশিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। উন্নত বিশ্বের দেশসমূহে মনাে-সামাজিক সমস্যা যেমন- দাম্পত্য কলহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, হতাশা, মানসিক দ্বন্দ্ব, আত্মহত্যা, মাদকাসক্তি ইত্যাদি সমাধানে সমাজকর্ম শিক্ষার প্রয়ােজনীয়তা রয়েছে। অন্যদিকে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে আর্থ সামাজিক সমস্যা যেমন-দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, অপরাধ ও কিশাের অপরাধ ইত্যাদি সমস্যা সমাধানে সমাজকর্ম শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকে অদ্যবধি আমেরিকা, ইউরােপ, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে প্রায় দুই হাজারের অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকর্মে উচ্চ শিক্ষা চালু রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রতি বছর পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী সমাজকর্মে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকর্ম বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচ.ডি . ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। 
সমাজকর্মে উচ্চ শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়ােজনীয়তা বিবেচনা করে জাপানের টোকিওতে কলেজ অব সােশ্যাল ওয়ার্ক নামে একটি পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। চীনে ২০০৯ সালে ১০ টি বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকর্ম বিভাগ খােলা হয়েছে এবং ২০১২ সাল থেকে ৩৪ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচ.ডি . ডিগ্রি প্রােগ্রাম চালু রয়েছে; যা সমাজকর্ম শিক্ষার প্রয়ােজনীয়তা তুলে ধরছে। বাংলাদেশেও উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এম.ফিল ও পিএইচ.ডি . পর্যায়ে সমাজকর্ম শিক্ষা চালু রয়েছে। 
বাংলাদেশে পাঁচটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রায় একশতটির মতাে কলেজে সমাজকর্মে স্নাতক প্রােগ্রাম চালু আছে। এছাড়া কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও সমাজকর্ম শিক্ষা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে সমাজকর্ম শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়ােজনীয়তা উপলব্ধি করে BCSWE নিয়মিত ভাবে সেমিনার, কনফারেন্স ও জার্নাল প্রকাশ করছে। সুতরাং একথা অনস্বীকার্য যে বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে সমাজকর্ম শিক্ষার প্রয়ােজনীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দল সমাজকর্মীর ভূমিকাঃ দল একটি গতিশীল সত্ত্বা। এর অন্যতম উপাদান হলাে সমাজকর্মী যার ভূমিকা বিভিন্নমূখী। একজন দল সমাজকর্মী কখনাে নেতৃত্বদানকারী, কখনাে নিয়ন্ত্রণকারী, কখনাে মধ্যস্থতাকারী, কখনাে সাহায্যকারী আবার কখনাে কর্মসূচি প্রণয়নকারীর ভূমিকা পালন করে থাকেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই দল সমাজকর্মীকে প্রতিষ্ঠান এবং দলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কর্মসূচি, নীতিমালা, সম্পদ, সামর্থ্য, দলীয় সদস্যদের চাহিদা ইত্যাদির দিকে খেয়াল রাখতে হয়। নিচে দল সমাজকর্মীর ভূমিকা আলােচনা করা হলাে:
১. দলের সদস্যদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নির্ধারণ: দলের লক্ষ্য অর্জনে দলের প্রত্যেক সদস্যকে কোনাে না কোনাে ভূমিকা পালন করতে হয়। প্রত্যেক সদস্যের পারস্পরিক সহযােগিতায় যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই দলীয় লক্ষ্য অর্জিত হয়। সমাজকর্মী দলের সদস্যদের কার কী ভূমিকা হবে তা নির্ধারণে সহায়তা করেন। 
২. কার্যকর দলীয় কাঠামাে গঠন: প্রত্যেক দলেরই একটি সাংগঠনিক কাঠামাে থাকে যা দলীয় লক্ষ্য ও আদর্শের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ দলীয় কাঠামাে সহজেই দলকে তার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমাজকর্মী দলকে তার সাংগঠনিক কাঠামাে গঠনে সহায়তা করে থাকেন। 
৩. বাস্তবধর্মী উদ্দেশ্য ও আদর্শ নির্ধারণ: কতিপয় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে দল গঠিত হয়। কিন্তু লক্ষ্য যদি বাস্তবমুখী হয় তবে তা অর্জন করা সম্ভব নয়। সেজন্য সমাজকর্মী তার জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলােকে দলকে বাস্তবধর্মী লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে থাকেন। 
৪. কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন: প্রত্যেক দলের লক্ষ্য ও দল উপযােগী কর্মসূচি থাকে। দল সমাজকর্মী এক্ষেত্রে দলের সদস্যদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে মূল্য দিয়ে দলের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও এজেন্সির নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন উপযােগী দলীয় কর্মসূচি নির্ধারণ করে থাকেন। 
৫. সম্পদের সদ্ব্যবহার: সাধারণভাবে প্রাপ্ত বস্তুগত ও অবস্তুগত সম্পদ, দলের সম্পদ এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও সমষ্টির সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে তা যথাযথভাবে ব্যবহারের উপর দলের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অনেকটাই নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী দলকে এমনভাবে সহায়তা করেন যাতে তারা তাদের বস্তুগত ও অবস্তুগত সম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহার।
৬. গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের বিকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা: দলের সার্বিক উন্নয়নে যােগ্য নেতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম এবং নেতৃত্ব অবশ্যই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভূত হওয়া প্রয়ােজন। এক্ষেত্রে সমাজকর্মীর কর্তব্য হলাে দলকে এমনভাবে সহায়তা করা যাতে দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চা অব্যাহত থাকে, সকলের অংশগ্রহণ ও মতামত গুরুত্ব পায়, সঠিক গড়ে ওঠে এবং দলের সদস্যরা কার্যকর সিন্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হয়। 
৭. দ্বন্দ্ব দূরীকরণ: দলে দ্বন্দ্ব-সংঘাত স্বাভাবিক বিষয়। কোনাে সক্রিয় দলে উপদল সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু দ্বন্দ্ব স্থায়ী হলে তা দলের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দলে দ্বন্দ্ব সৃষ্টির মূল কারণ হলাে বঞ্চনা, নির্যাতন, অসন্তোষ, ক্ষোভ, ব্যক্তিত্বের পার্থক্য প্রভৃতি। সমাজকর্মী অসন্তোষ দূর করে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক সহযােগিতার সম্পর্ক সৃষ্টিতে দলকে সহায়তা করে থাকেন। 
৮. প্রতিষ্ঠানের সুযােগ-সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ধারণা প্রদান: দলের সুষ্ঠু গতিশীলতার জন্য প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য, কার্যক্রম, সুযােগ-সুবিধা, সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি সম্পর্কে সদস্যদের পূর্ণজ্ঞান থাকা বাঞ্ছনীয়। এসব জ্ঞান থাকলে দলের সদস্যদের পক্ষে নিজ নিজ ভূমিকা পালন যেমন সহজতর হয় তেমনি তাদের প্রত্যাশাও বাঞ্ছিত সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে। সমাজকর্মী সদস্যদের এসব বিষয়ে জ্ঞানদান করে থাকেন।
নোটিশ: তোমরা এসাইনমেন্ট লেখার আগে প্রশ্ন ভালো করে পড়ে নিবে। আর এই উত্তর থেকে ধারণা নিবে, হুবাহু না লিখে তুমাদের মতো করে লিখতে পারলে ভালো। লিখার চেষ্টা ও করবে।
আমাদের কাজের মধ্যে কোন প্রকার ভুল ত্রুটি দেখা গেলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানান। প্রতি সপ্তাহের সকল বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন। আমাদের কাছ থেকে ন্যূনতম সাহায্য পেয়ে থাকলে আপনাদের অন্যান্য বন্ধুদের সাথে ওয়েবসাইটটিকে ফেসবুকে শেয়ার দিতে পারেন।

ঘরে বসে অনলাইনে কিভাবে টাকা উপার্জন করবেন ফ্রীতে –How to make money online from home CLICK HERE IT’S FREE

স্বীকারোক্তিঃ এখানে উপস্থাপিত সকল তথ্যই দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক দ্বারা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা। যেহেতু কোন মানুষই ভুলের ঊর্দ্ধে নয় সেহেতু আমাদেরও কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল থাকতে পারে।সে সকল ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী এবং একথাও উল্লেখ থাকে যে এখান থেকে প্রাপ্ত কোন ভুল তথ্যের জন আমরা কোনভাবেই দায়ী নই এবং আপনার নিকট দৃশ্যমান ভুলটি আমাদেরকে এই খানে জানাতে পারেন ক্লিক করুন। 

Leave a Reply