অনলাইন বিজনেসে যেভাবে সফল হবেন।

অনলাইন বিজনেসে যেভাবে সফল হবেন।

দুরবিন নিউজ২৪,dorbinnews24



How to be successful in online business.

ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্রয়বিক্রয়ের ধারাটা আমাদের দেশে খুব দ্রুতই অনেক জনপ্রিয় হচ্ছে। অনলাইনে বসে কয়েকটা মাত্র ক্লিকে পণ্য বা সেবা কেনা যাচ্ছে। অর্ডারের নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য চলে আসছে নিজের ঠিকানায়। বই, পোশাক, চাল-ডাল-সবজি, ইলেকট্রনিকস পণ্য কিংবা কোনো সফটওয়্যার সবই বেচাকেনা করা যায় অনলাইনে। আর এটাকেই বলে ই-কমার্স। বর্তমান ই-কমার্সে তরুণ উদ্যোক্তাদের আগ্রহও অনেক বেশি।


পণ্য বিক্রি করতে যেমন দোকান লাগে, ই-কমার্সেও তা-ই। একটি ই-কমার্স সাইট এখানে দোকান হিসেবে কাজ করে। এর সাথে অনলাইনে মার্কেটিং এর মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশে পণ্য বিক্রি করা যায়।


বাংলাদেশের পরিপেক্ষিতে অনলাইনে ব্যবসা করার জন্য ফেসবুক পেজ একটি অন্যতম মাধ্যম। যে কেউ যেকোন সময়ে একটি ফেসবুক পেজ খুলেই অনলাইনব্যবসা শুরু করতে পারে। শুরু করার জন্য ফেসবুক পেজকেই আমরা যথেষ্ট মনে করি। কিন্তু নিজের ব্যবসাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য এবং নিজস্ব পরিচিতি গড়ার জন্য ফেসবুক পেজ কখনোই যথেষ্ট নয়।


এক্ষেত্রে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট আপনার ব্যবসার জন্য আবশ্যক। অনলাইন ব্যবসায় ফেসবুক পেইজ থাকার পরেও ই-কমার্স ওয়েবসাইট কেন জরুরী তা নিয়ে আমার পূর্বের লেখাটি পড়তে পারেন।


একজন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য প্রয়োজন হয় একটি ওয়েবসাইট, প্রফেশনাল ফেসবুক পেইজ, ডোমেইন-হোষ্টিংসহ নানান উপকরণ, যা সহজলভ্য ও একইসাথে প্রফেশনালিটি ম্যানটেইন করে পাওয়াটা দুঃসাধ্য ব্যাপার।

ই-কমার্স ওয়েবাসাইটের সুবিধাসমূহঃ

১) এক শব্দে সকল প্রোডাক্টস ও সার্ভিস উপস্থাপন।

এক বা কয়েক শব্দের একটি ডোমেইনের মাধ্যমে ই-কমার্স ওয়েবসাইট এ আপনার সকল প্রোডাক্টস একই জায়গায় সাজিয়ে উপস্থাপন করা যায় যাতে একজন ক্রেতা একটি প্রোডাক্টস এর জন্য ওয়েবসাইট ভিজিট করলেও অন্যান আরো প্রোডাক্টস দেখে অন্য প্রোডাক্টসগুলো কিনতেও আগ্রহী হয়। যেমন আমাজন.কম এ গেলে লাখ লাখ প্রোডাক্টস এক জায়গায়, একসাথে পাওয়া যায়।



২) নিজস্ব পরিচয় তৈরী।

ফেসবুক পেইজে যত বেশী একটিভ থাকা ও মার্কেটিং করা হোক, দিনশেষে এগুলো একটিও নিজস্ব ওয়েবসাইট নয়। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ যেকোন সময় পেইজ আনপাবলিশ, ব্যান বা রেস্ট্রিকটেড করতে পারে। শুধুমাত্র ফেসবুক নির্ভর বিজনেসে পেইজ আনপাবলিশ রেস্ট্রিকটেড হলে পুরো বিজনেসটিই বন্ধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে একটি ওয়েবসাইট আপনার নিজস্ব পরিচয় বহন করতে পারে, যার একান্ত মালিক আপনি এবং কন্ট্রোলও সম্পুর্ণ আপনার হাতে।



৩) ক্রেতার বিশ্বাস অর্জন।

অনলাইনে যারা কেনাকাটা করে তাদের সকলের ইন্টারনেট সম্পর্কে বেশ ধারনা আছে। কয়েক ক্লিকেই একটি ফেসবুক পেইজ খুলে মুহুর্তের মাঝেই একটি অনলাইন ব্যবসা শুরু করা যায়, এই বিষয়টি এখন একটি ওপেন সিক্রেট। আর এত সহজেই অনলাইন ব্যবসা শুরু করা যায় বলে এক শ্রেণীর মানুষ প্রতারণা করার বিশেষ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ফেসবুককে। 

এখন প্রায় প্রতিনিয়তই সাধারন ক্রেতাদের প্রতারিত হবার খবর পাওয়া যায়। তাই সতর্ক ক্রেতাগণ শুধুমাত্র ফেসবুক পেজের উপর বিশ্বাস রাখতে পারেন না। এই অবস্থায় একটি প্রফেশনাল ই-কমার্স ওয়েবসাইট খুব সহজেই একজন কাস্টমারের বিশ্বাস অর্জন করতে পারে।



৪) নিজের মতো কাষ্টোমাইজেশন।

আপনি যখন ফেসবুক ব্যবহার করে আপনার বিজনেস পরিচালনা করছেন তখন চাইলেও সেটিতে নিজের ইচ্ছেমতো ডিজাইন, কালার ও ফাংশনালিটিজ ব্যবহার করতে পারছেন না। ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরীর মাধ্যমে আপনার নিজের মতো করে সাজাতে পারার স্বাধীনতা পাচ্ছেন। এতে করে আপনার কোম্পানীর ব্র্যান্ড বা থিম কালার, নিজস্ব ফাংশনালিটিজ ও তথ্যাদি রাখতে পারছেন।



৫) সম্পুর্ণ ফ্রিতে মার্কেটিং

অনলাইনে যখন কোন ক্রেতা নির্দিষ্ট কোন প্রোডাক্ট এর জন্য গুগল বা ইয়াহুতে সার্চ দেয় তখন বেশ কিছু ই-কমার্স ওয়েবসাইট চলে আসে। যথার্থ এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন) এর মাধ্যমে ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পুর্ণ ফ্রিতে অনেক পরিমাণে অর্গানিক সেল জেনারেট করা সম্ভব। এছাড়াও ফেসবুক এড কোষ্টিং বেড়ে গেলে অথবা এড একাউন্ট ডিজেবল হলেও ব্যবসা বন্ধ হয় না, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এডর্ভাটাইজিং রানিং রাখা যায়।



৬) অটোমেশন সিস্টেম।

আপনি যখন ফেসবুকে কোন প্রোডাক্ট বিক্রির পোস্ট করেন তবে এর সাথে সবসময় একটিভ থাকার পাশাপাশি সবকিছু ম্যানুয়ালী হ্যান্ডেলও করতে হয়। ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে এই সকল বিষয় অটোমেটিক প্রসেসে করা যায়। আপনার ওয়েবসাইট থেকে কাস্টোমার নিজের মতো করে প্রোডাক্টস সিলেকশন ও সরাসরি অনলাইন পেমেন্ট করে অর্ডার কনফার্ম করতে পারে। এতে লক্ষাধিক প্রোডাক্টসও বিনা ঝামেলায় সেল করা যায়।


এছাড়াও সহজে ম্যানটেইন্যান্স, ইজি অপারেটিং সিস্টেম ও অটোমেশন সিস্টেমেরে জন্য ই-কমার্স ওয়েবসাইট তুমুল জনপ্রিয় হচ্ছে। মজার বিষয় হলো বর্তমান বিশ্বের বড় সব ধনকুবের মধ্যে বেশীরভাগই ই-কমার্স ওয়েবাইটের মাধ্যমে। এরমধ্যে আমাজনের জেফ বেজোস, আলীবাবার জ্যাক মা’র কথা তো সবারই জানা।


ই-ক্যাবের হিসাবে, ই-কমার্স সদস্যসংখ্যা প্রায় ১ হাজার ২০০। বছরে বিক্রির পরিমাণ আট হাজার কোটি টাকারও বেশী। 
অবশ্য এর বাইরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোট ছোট পণ্যবিক্রেতা রয়েছেন। আবার দোকানমালিকেরা অনেকেই অনলাইনে পণ্য বিক্রি করেন। তাঁদের অনেকেই আবার সুপরিচিত অনলাইন মার্কেট প্লেস বা কেনাবেচার মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। 

আন্তজার্তিক ই-কমার্স পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা জার্মান ওয়েব পোর্টাল স্ট্যাটিস্টা গত মে মাসে বৈশ্বিক ইকমার্স ব্যবসা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরে চলতি জুলাই মাসে তারা আবার সেটি হালনাগাদ করে। স্ট্যাটিস্টার হিসাবে, ২০২০ সালে বৈশ্বিক ইকমার্স ব্যবসার বাজারের আকার দাঁড়িয়েছে দুই লাখ কোটি ডলার। সবচেয়ে বড় বাজার চীন। এরপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি।


ই-কমার্স নিয়ে যেকোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। এছাড়া আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটের জন্য ২জিবি হোষ্টিং এর সাথে সম্পুর্ণ ফ্রিতে ডোমেইন পেতে কমেন্ট করতে পারেন, আমি বিস্তারিত ইমেইলে পাঠিয়ে দিব।

Leave a Reply