ফেসবুকের অ্যাড কোন রেসপন্স নাই ?

সব দোষ কি একা ফেসবুকের একার?

অ্যাডে কেন রেস্পন্স নাই, অ্যাড একাউন্ট কেন ডিজাবল হচ্ছে সেটার জন্য নাকি মামলাও করে দেয়া উচিত এরকম কমেন্ট পড়লাম সেদিন, আসলেই কি?

আমাদের কি কোন দোষ নাই?

আমরা কি ভুল করছি না কোন।

সেটা নিয়েই লেখার চেস্টা করছি।

তবে এই লেখার উদ্যেশ্য ফেসবুকের উকালতি করা না, লেখাটার উদ্যেশ্য সব দোষ ফেসবুকের ঘাড়ে দিয়ে আমরা যেভাবে মুখ ফিরিয়ে বসে আছি সেটা আমাদের নিজেদের জন্য ক্ষতিকর।

ফেসবুকের এক নাম্বার দোষ

অ্যাড একাউন্ট ডিজাবল করে দেয়া

অ্যাড একাউন্ট কেন ডিজাবল হচ্ছে, ফেসবুক বলছে পলিসি ভায়োলেশন, আমরা বলছি আমরা কই পলিসি ভায়োলেশন করলাম, ফেসবুক বিনা কারনে আমার অ্যাড একাউন্ট ডিজাবল করলো, কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে আমরা বেশির ভাগ মানুষই জানি না ফেসবুক তাদের অ্যাড পলিসিতে কি লিখেছে, না জেনেই বলছি আমরা কোন ভায়োলেশন করি নাই, এটা তাহলে কার দোষ, আমার নাকি ফেসবুকের।

আপনি কি জানেন অ্যাডের কন্টেন্ট এ গ্রামারে ভুল হলে অ্যাড রিজেক্ট হয়, আপনি কি জানেন ফেসবুক পারসোনাল হেলথ পলিসিতে কি লেখা আছে, আপনি কি জানেন ব্রান্ডের প্রডাক্ট কিভাবে বুস্ট করলে রিজেক্ট হয় না?? আর এটা।কি জানেন যে এগুলা না জেনে অ্যাড দিলে আপনার অ্যাড রিজেক্ট হবে, এবং এক।সময় গিয়ে পুরা অ্যাড একাউন্ট ই বাতিল হয়ে যাবে??

অবশ্যই পড়বেন:

ফেসবুক থেকে কীভাবে উপার্জন করবেন

এরকম আরো বহু রুলস ফেসবুক করে রেখেছে তাদের অ্যাড পলিসিতে, আর আমরা না জেনেই সেগুলা প্রতিনিয়ত ভাংছি, তাহলে আমাদের অ্যাড একাউন্ট ডিজাবল হবে না তো কাদেরটা হবে। একটা ছোট গ্রুপের রুলস ১০ বার পড়ার পর আমরা সেই গ্রুপে পোস্ট দেয়া শুরু করি এই ভয়ে যে যদি গ্রুপ থেকে ব্যান করে দেয়?? আর ফেসবুকের নিয়ম ১০ বার পড়া তো অনেক দূর ১ বার কয়জন ভালো করে পড়েছি।

আপনি একটা জায়গাতে কাজ করলে আপনার নিয়ম অনুজায়ি কাজ করবেন নাকি তাদের নিয়ম অনুজায়ি কাজ করবেন?? এটা আগে চিন্তা করা উচিত।

ফেসবুকের দুই নাম্বার দোষ

পারসোনাল প্রোফাইল ডিজাবল করে দেয়া

এখানেও ফেসবুকের দোষ, আমার প্রোফাইল বিনা কারনে ডিজাবল করে দিলো, এখন কথা হচ্ছে “বিনা কারনে” আমরা কিসের ভিত্তিতে বলছি যেখানে ১০০ জনের মধ্যে আমার ধারনা ৯০ জনই ফেসবুকের একাউন্ট ভায়োলেশনের নিয়ম পড়ি পর্যন্ত না, ফেসবুক বলছে একটা একাউন্ট ব্যাবহার করতে, আমরা কি করছি সেটা, ফেসবুক বলছে প্রোফাইলে নিজের ছবি ব্যবহার করতে, সবাই কি করে সেটা, ফেসবুক বলছে স্প্যামিং না করতে, আমরা কি আসলেই জানি স্প্যামিং কি জিনিস, ফেসবুক কোন ব্যাপারগুলাকে স্প্যামিং হিসেবে ধরে?? তাহলে??

আপনি কি জানেন আপনি কোন একটা জায়গায় কমেন্ট করলেন সেই কমেন্ট কেউ হাইড করে দিলে সেটা আপনার প্রোফাইলের উপর প্রভাব পড়তে পারে, আপনি কি জানেন আপনি কাউকে ম্যাসেজ সেন্ড করলে কেউ যদি সেটা রিপোর্ট করে তাহলে আপনার একাউন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এরকম আরো বহু ব্যাপার আছে যেগুলা আমরা একদম নরমাল মনে করে প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছি, কিন্তু সেগুলা আসলে ফেসবুকের নিয়মের বাইরে, এরপর ফেসবুক একাউন্ট ডিজাবল করে দিলে ফেসবুকের দোষ।

ফেসবুকের দোষ তিন নাম্বার দোষ

অ্যাডে রেস্পন্স নাই, সেল নাই, ম্যাসেজ অ্যাডে দুনিয়ার টাকা কাটে।

অ্যাডে রেস্পন্স কিভাবে থাকবে যেখানে ১০০ জন ব্যবসায়ী এর মধ্যে ৯৫ জন একই ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করে, আচ্ছা করুক, ধরে নিলাম করতেই পারে, অ্যাডে কিভাবে রেস্পন্স আসবে যখন ফোটগ্রাফির মান একদমই ভালো থাকে না, কি প্রোডাক্ট অনেক সময় বুজাই যায় না, না হলে গুগুল থেকে।কপিরাইট ছবি ডাউনলোড করে পেজে আপলোড করা। এরপর যদি রেস্পন্স না আসে সেটা ফেসবুকের দোষ??

১০০ জন মানুষের একই ক্যাটাগরি প্রোডাক্টে, অ্যাড, টার্গেট পিপলও স্বাভাবিক ভাবেই একই রকম হবে, তাহলে এখন ফেসবুক করবে? নিলাম করবে৷ কার অ্যাড সে টাইমলাইমে আগে দেখাবে, নিলামে কারা জিতবে যাদের পেজের মান ভালো, যাদের ছবির মান ভালো, কন্টেন্ট ভালো, রচনা না লিখে যারা ফেসবুকের সাজেশন অনুযায়ী ছোট কন্টেন্ট লিখে এবং যাদের বাজেট ভালো এবং যারা বুস্ট ছাড়াও অন্য পোস্টে অরগানিক ভাবে ভালো ফলাফল পায়। 

তাহলে আপনি ই চিন্তা করে দেখুন তো উপরে যে পয়েন্টগুলা দিলাম সেগুলা পড়ে কি মনে হচ্ছে? সমস্যা কি আমার, আপনার নাকি ফেসবুকের। অ্যাডে খরচ বেশি, প্রতি ম্যাসেজে অনেক টাকা কাটে, ফেসবুকের দোষ।

ফেসবুক মার্কেটিং এর উপর গাইডলাইন, টিপস, সাজেশনমূলক একটা বই আছে আমার বাজারে, কেউ নিতে আগ্রহী হলে আমাকে ইনবক্স করতে পারেন।

ভালো কথা ফেসবুকের দোষ কিন্তু জানেন কি প্রতি ম্যাসেজে কিভাবে টাকা কাটে ফেসবুক? আপনার অ্যাডে যদি রিচ অথবা ইমপ্রেশনস বেশি হয় ম্যাসেজ কম তাহলে আপনার ম্যাসেজ রেট বেশি হবে, সহজ করে বলি আপনার অ্যাড দেখলো ৫০০০ মানুষ ম্যাসেজ দিলো ৫ জন, স্বাভাবিক ভাবেই আপনার ম্যাসেজের খরচ বাড়বে, এখন প্রশ্ন হচ্ছে আপনার অ্যাড ৫০০০ হাজার মানুষ দেখে যদি ৫ জন ম্যাসেজ দেয়, বাকিরা যদি ম্যাসেজ না দেয় তাহলে ফেসবুক কি করতে পারে??

ফেসবুকের এখানে কিছুই করার নাই, যা করার আপনাকেই করতে হবে, কন্টেন্ট ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করতে হবে, কন্টেন্ট, প্রোডাক্ট ইত্যাদি যখন ভালো হবে তখন ৫০০০ মানুষ আ্যাড দেখলে যখন ৫০ জন ম্যাসেজ দিবে তখন দেখবেন আপনার প্রতি ম্যাসেজে কত টাকা কাটে। এই উদাহারন শুধু ম্যাসেজ অ্যাডের ক্ষেত্রে না মোটামুটি সব অ্যাডের ক্ষেত্রেই।

অবশ্যই পড়বেন:

ফেসবুক থেকে কীভাবে উপার্জন করবেন

উপরে লিখেছি একবার আবারও লিখছি,

এই লেখাতে ফেসবুকের পক্ষে লেখা, তাদের জন্য উকালতি করা, এরকম কোন উদ্যেশ্য নিয়ে আমি লেখাটা লিখি নি, আমার একটাই উদ্যেশ্য সেটা হচ্ছে ফেসবুক কে দোষ দিতে দিতে আমাদের নিজেদের ভুলগুলা ঢাকা পড়ে যাচ্ছে যা কিনা এলার্রামিং, এটা হতে থাকলে এই ফেসবুকের মাধ্যামে বিজনেস করা লাটে উঠবে। 

তাই ফেসবুকের সমস্যা না খুজে আমরা কোথায় ভুল করছু সেটা নিয়ে আগে চিন্তা করতে হবে, অবশ্যই ফেসবুকের অনেক সমস্যা থাকতে পারে, আর সেটাই স্বাভাবিক, তবে সব সমস্যা ফেসবুকের এটা বলে মুখ ফিরিয়ে রাখার উপায় কিন্তু নেই। আর আপনি যে প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন তাদের নিয়ম মেনেই কিন্তু আপনাকে কাজ করতে হবে এটাই স্বাভাবিক, ফেসবুক আপনার নিয়মে চলবে না, আপনাকে ফেসবুকের নিয়ম অনুজায়ি চলা লাগবে আর সে জন্য নিয়মগুলা ভালো করে জানা লাগবে।

লিখেছেন আরিফুল ইসলাম 

Leave a Reply