সপ্তম ৭ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের হিন্দুধর্ম এসাইনমেন্ট উত্তর-সমাধান

সকল শ্রেণির ষষ্ঠ,৭ম,৮ম,৯ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের  এসাইনমেন্ট উত্তর সমাধান ২০২১


১৪তম সপ্তাহের ৬ষ্ঠ,৭ম, ৮ম, ৯ম শ্রেণির এসাইনমেন্ট ২০২১

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় ছাত্র ও ছাত্রী বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আসা করি সবাই ভালো আছেন। বরাবরের মতো, প্রতি সপ্তাহে আপনার জন্য  ৬ষ্ঠ,৭ম,৮ম,৯ম ও ১০ম শ্রেণির হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এসাইনমেন্ট উত্তর অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশের পরে, আমরা অবিলম্বে ষষ্ঠ,৭ম, অষ্টম, নবম শ্রেণির উত্তর ২০২১ দিচ্ছি। আজকের পোস্টে, আমি তোমাদের ষষ্ঠ,৭ম,৮ম,৯ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট প্রশ্ন ও উত্তর শেয়ার করে থাকি। ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম ও ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত এ্যাসাইনমেন্ট ১৪তম সপ্তাহের জন্য এ্যাসাইনমেন্ট। 14th week assignment 2021, ৭ম শ্রেণির হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ১৪তম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট উত্তর

Covid-19 মহামারীর কারণে এবছরের জুলাই মাসের শেষের চলমান নির্ধারিত কাজ (এসাইনমেন্ট) কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং পরবর্তীতে  অগাস্ট মাসের ১১ তারিখে পূণরায় এ্যাসাইনমেন্টের কার্যক্রম শুরু করা হয়। ২০২১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার ধারা বজায় রাখার জন্য পূণরায় ৬ষ্ঠ,৭ম,৮ম ও ৯ম শ্রেণির বিভিন্ন বিষয়ের উপর এসাইনমেন্ট গ্রহন করার প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।


আরও পড়ুন –
৭ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের হিন্দুধর্ম এসাইনমেন্ট উত্তর, অষ্টম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট, ৭ম শ্রেণির এসাইনমেন্ট উত্তর ১৪তম, ৭ম শ্রেণির ১৪তমম অ্যাসাইনমেন্ট এর উত্তর, ৭ম শ্রেণির এসাইনমেন্ট উত্তর, ৮ম শ্রেণির এসাইনমেন্ট উত্তর, ৮ম শ্রেণির এসাইনমেন্ট উত্তর, ৯ম শ্রেণির এসাইনমেন্ট উত্তর বাংলা

সপ্তম/৭ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর/সমাধান হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা (এসাইনমেন্ট-৩)

কোভিড -১৯ পরিস্থিতিতে জীবজগতের কল্যাণ কামনায় হিন্দুধর্মের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমূহ –
কর্মবাদ: 
কর্মবাদ ভারতীয় দর্শনের একটি নৈতিক ধারণা। কর্মবাদ অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষকে তার কৃতকর্মের ফলভােগ করতে হবে। কর্মফল কখনােই নষ্ট হয় না। কর্মফলের মধ্য দিয়ে শুভ, অশুভ, পাপ ও পুণ্য সংরক্ষিত থাকে। এ কারণে কর্মবাদকে নৈতিক মূল্যের সংরক্ষণ নিয়ম বলে। কর্মবাদ এক প্রকার নৈতিক কার্যকারণবাদ। কর্মবাদের মূলকথা হচ্ছে মানবজীবনে সুখ-দুঃখ ভােগ কর্মের ফলমাত্র। কর্ম হচ্ছে কারণ আর সুখ-দুঃখ ভােগ হচ্ছে কর্মফল। সৎকাজের জন্য পুণ্য এবং অসৎ কাজের জন্য পাপ ভােগ করতে হবে। কর্ম এক ধরনের অদৃশ্য শক্তি উৎপন্ন করে যার ফলে জীবকর্ম অনুসারে ভবিষ্যতে সুখ-দুঃখ ভােগ করে। 
কর্মবাদ তাই একটি সর্বব্যাপী নৈতিক নিয়ম ও কর্মফল সৃষ্টি করার অদৃশ্য শক্তিকে বােঝায়। কর্মবাদের ওপর ভিত্তি করেই ভারতীয় দর্শনে জন্মান্তরবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মৃত্যুর পর আত্মা নতুন দেহ ধারণ করে। বর্তমান জীবনের কৃতকর্মের ফলভােগ যদি বর্তমান জীবনে শেষ না হয়, তাহলে কর্মফল ভােগের জন্য তাকে দেহধারণ করে জন্মগ্রহণ করতে হবে, কারণ কর্মফল বিনষ্ট হয় না, সংরক্ষিত থাকে। ভারতীয় দার্শনিকগণ কর্মবাদের সাহায্যে অতীত-বর্তমান -ভবিষ্যৎকে একই সূত্রে গ্রথিত করেন। শ্রীমদ্ভগবদ গীতায় জন্মান্তরবাদকে নতুন বস্ত্র পরিধান, বৌদ্ধদর্শনে ভবচক্র এবং বেদান্ত দর্শনে নিত্য ও সনাতন আত্মা স্বীকারের মাধ্যমে সমর্থন করা হয়। 
জন্মান্তরবাদ: 
হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে, জীবের মৃত্যুর পর আত্মা পুনরায় জীবদেহ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। ‘জন্মান্তর’ কথাটির মূল অর্থ হলাে, জীবাত্মা একদেহ পরিত্যাগ করলে কর্মফল ভােগ করার জন্য অন্য দেহ ধারণ করে এ জগতেই পুনরায় জন্মগ্রহণ করে। বেদ, উপনিষদ এবং ভগবৎ গীতায় বলা হয়েছে, জীবাত্মা স্বরূপত ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু জাগতিক বস্তুর প্রতি আসক্তিবশতই আত্মাকে দেহ ধারণ করতে ” শ্রীমদ্ভগবদগীতায় অর্জুনকে উদ্দেশ্য করে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের উক্তিটি প্রণিধানযােগ্য 
বহুনি মে ব্যতীতানি জন্মনি তব চার্জুন। 
তান্যহং বেদ সর্বাণি ন ত্বং বেথু পরন্তপ
অর্থাৎ যে অর্জুন তােমার আমার বহুবার জন্ম হয়েছে। সে কথা তােমার মনে নেই, সবই আমার মনে আছে। এই বক্তব্যর মধ্য দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ যে অর্জুনের সখা এবং তার রথের সারথি এ সত্য অতিক্রম করে আর একটি পরম সত্য প্রকাশিত হয়েছে, তা হলাে তিনি সর্বজ্ঞ, পরেমেশ্বর। তিনি শাশ্বত অব্যয় পরমাত্মার প্রতীক। আবার যখন বলা হয় অর্জুনের বহুবার জন্ম হয়েছে, এ থেকে বােঝা যায় অর্জুনের মধ্যেও পরমাত্মার ন্যায় কোন শাশ্বত বস্তু রয়েছে যা বহুবার জন্ম-মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েও নষ্ট হয়ে যাননি। শাস্ত্রের ভাষায় জীবদেহের ওই শাশ্বত বস্তুটি হলাে জীবাত্মা, সংক্ষেপে আত্মা। এখানে উল্লেখ্য, জীবাত্মা পরমাত্মার অংশ বিশেষ। অংশের মধ্যেও মূলবস্তুর গুণাগুণ বিদ্যমান। 
তাই পরমাত্মার ন্যায় জীবাত্মাও অব্যয়, জন্ম মৃত্যুহীন, শাশ্বতবস্তু। তবে কোন অনাদী অতীতে পরমাত্মা থেকে বিযুক্ত হয়ে জীবাত্মা ওই পরমাত্মার পুনরায় মিলিত হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তা বলা কঠিন। তবে যত দিন পরমাত্মা বা ঈশ্বরপ্রাপ্তি না ঘটে তত দিন বা। প্রাপ্তির জন্য যােগ্যতা অর্জন করতে হয়। গীতায় এও বলা হয়েছে, মানুষ প্রকৃতির এবং রজঃ গুণের প্রভাবে সুখ-দুখ, মােহাদিতে আবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং আমি সুখী, আমি দুঃখী আমি কর্তা, আমার কর্ম ইত্যাদি আমিত্ব প্রকাশ করতঃ কর্মনাশে প্রবৃত্ত হয়। এ সকল কর্মফল ভােগের জন্য তাকে বারবার জন্মগ্রহণ করতে হয়। আর একাধিকবার জন্মগ্রহণ করাকেই বলা হয় জন্মান্তরবাদ।দেহ ও আত্মা: দেহ ও আত্মার মধ্যে এক ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ রয়েছে। দেহকে আশ্রয় করে আত্মার অভিযাত্রা, আবার আত্মাকে লাভ করে দেহ সজীব। দেহহীন আত্মা নিষ্ক্রিয়, আত্মাহীন দেহ জড়। 
মােক্ষলাভ:  
বিমােক্ষ, বিমুক্তি বা মুক্তি নামেও পরিচিত। 
১. মােক্ষলাভ হল হিন্দুধর্ম বৌদ্ধধর্ম, জৈন ধর্ম ও শিখ ধর্মের একটি পরিভাষা, যার দ্বারা বিভিন্ন প্রকারের দাসত্ব মুক্তি, বন্ধনমুক্তি, জ্ঞানলাভ, স্বাধীনতা লাভ ও পরিত্রাণ লাভ কে বােঝানাে হয়। 
২. এটি একটি আত্মার মুক্তি ও পরকাল বিষয়ক ধারণা যার দ্বারা সংসার নামক জন্ম-মৃত্যুর দ্বারা আবর্তিত পুনর্জন্মের জীবাত্মার মুক্তিলাভ করে পরমাত্মার সঙ্গে মিলিত হওয়াকে বােঝানাে হয়। 
৩. জ্ঞানতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক বিবেচনায়, মােক্ষ হল অজ্ঞানতা হতে মুক্তিলাভ, যার মানে হলঃ আত্ম-অনুধাবন, আত্ম-সংশােধন ও আত্ম-জ্ঞান।
হিন্দু ধর্মের মূলত কর্মবাদ এর মধ্যমে মানুষ তার সুনির্দিষ্ট সুশৃংখল কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে। যেমন বর্তমানে যে কোভিদ-19 পরিস্থিতি চলছে সেখানে আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য হচ্ছে মাস্ক পরিধান করা, হাত ধােয়া এবং অপরকে এবারের সম্পর্কে সচেতন করা। একই ডুবে জন্মান্তরবাদের ক্ষেত্রেও আমরা যদি চিন্তা করি হিন্দু ধর্মে বলা হয়েছে যেমন কর্ম তেমন ফল। সুতরাং এইসব কর্ম করলে আমরাও যেমন সুস্থ সুখী সমৃদ্ধ জীবন যাপন করতে পারব তেমনি অন্যকেও সুস্থ রাখার যে দায়িত্ব পালন করব তার মাধ্যমে আমরা মুখ্য লাভ করে পরবর্তী জন্মে এটা ভালাে জীবন পেতে পারি বা ঈশ্বরের সান্নিধ্য খুব সহজেই পেতে পারি। 
হিন্দু ধর্ম মূলত কর্মবাদ কে সকল মতবাদ এর সাথে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছে যেখানে বলা হয়েছে সকল কর্ম ঈশ্বরকে খুশি করার জন্য তাকে আনন্দ দান করার জন্য করতে হবে এবং আমাদের কোনাে কিছু না ভেবেই শুধুমাত্র মানুষের উপকারের জন্যই কর্তব্যকর্ম করে যেতে হবে যেকর্তব্যকর্ম মানুষ করলে পৃথিবীর মঙ্গল হবে মানুষ সুখে ও সুস্থ অবস্থায় জীবনযাপন করতে পারবে। এতে করে ঈশ্বরও আমাদের প্রতি অনেক সন্তুষ্ট থাকবেন এবং আমাদের কর্ম ফলস্বরূপ পরবর্তী জনমে আমরা ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করতে পারব। 
খুব সহজেই মুখ্য লাভ করতে পারব কারন গীতায় শ্রী ভগবান বলেছেন কর্মে তােমার অধিকার ফলে নয় অর্থাৎ কর্ম করে গেলে যদি সেটি সঠিক পথে হয় মানুষের উপকার এবং কল্যাণের জন্য হয় তাহলে সেই কর্মের ফল অবশ্যই ভালাে এবং এই মহৎ কাজের জন্য ঈশ্বর আমাদেরকে মুখ্য লাভের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবেন পরিশেষে বলা যায় হিন্দুধর্ম এমন একটি সুশৃঙ্খল এবং নিয়মতান্ত্রিক ধর্ম যেখানে কর্মবাদ জন্মান্তরবাদ মােক্ষলাভ এর যে তত্ত্ব দেওয়া আছে তার মাধ্যমে আমরা এটাই বুঝতে পারে সকল কর্মে ঈশ্বর ঐশ্বরিক সৃষ্টিকে সেবা দানের মাধ্যমে তাদেরকে সুস্থ স্বাভাবিক রাখার মধ্যেই আমরা খুব সহজে মুখ্য লাভ করতে পারে এবং মানুষের কল্যাণের জন্য ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করতে পারি।
আরো পড়ুন

আরো পড়ুন –

 
বিশেষ সতর্কতা: উপরোক্ত নমুনা উত্তরগুলো দেওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য হল, শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত বিষয়ের উপর ধারণা দেওয়া। ধারণা নেওয়ার পর অবশ্যই নিজের মত করে এসাইনমেন্ট লিখতে হবে। উল্লেখ্য যে, হুবহু লেখার কারণে আপনার উত্তর পত্রটি বাতিল হতে পারে। এ সংক্রান্ত কোন দায়ভার Dorbinnews24 -এর নয়।

আমাদের কাজের মধ্যে কোন প্রকার ভুল ত্রুটি দেখা গেলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানান। প্রতি সপ্তাহের সকল বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন। আমাদের কাছ থেকে ন্যূনতম সাহায্য পেয়ে থাকলে আপনাদের অন্যান্য বন্ধুদের সাথে ওয়েবসাইটটিকে ফেসবুকে শেয়ার দিতে পারেন।

ঘরে বসে অনলাইনে কিভাবে টাকা উপার্জন করবেন ফ্রীতে –How to make money online from home CLICK HERE IT’S FREE

Leave a Reply