আমরাই কি মহাবিশ্বের কেন্দ্রে অবস্থিত?

মহাবিশ্বের মৌলিক উপাদান কি কি, মহাবিশ্ব সম্পর্কে অজানা তথ্য, মহাবিশ্ব ও সৌরজগৎ, মহাবিশ্ব কাকে বলে, মহাবিশ্ব ও ছায়াপথ, আমাদের গ্যালাক্সির নাম কি, মহাবিশ্ব ও পৃথিবী, মহাবিশ্ব কত বড়

রাতের আধারে আপনি আকাশের যে দিকেই তাকান না কেন দেখতে প্রায় একই রকম লাগে। চতুর্দিকে অজস্র তারার হাতছানি। মনে হবে আমিই মহাবিশ্বের কেন্দ্রে অবস্থিত আর বাকি সবকিছু আমাকে কেন্দ্র করে আছে।

ঠিক একই রকম চিন্তা করছে দূরের কোন তারার কক্ষপথে থাকা গ্রহের চিন্তাশীল কোন প্রাণী (যদি থাকে)।তার কাছেও তার চারপাশের মহাবিশ্ব সুষম মনে হবে এবং সে নিজেকে মহাবিশ্বের কেন্দ্রে ভাববে। দুইজনের ভাবনাই নিজের অবস্থান থেকে সঠিক। কিন্তু সত্যিটা হল এই মহাবিশ্বের কোন কেন্দ্র নেই। কারণ মহাবিশ্বের কোন প্রান্ত নেই।

উৎপত্তির পর থেকে মহাবিশ্ব সব দিকে সমানভাবে প্রসারিত হচ্ছে।মহাবিশ্বের কেন্দ্র না থাকার আরেকটি যুক্তি হল এটি নির্দিষ্ট কোন বিন্দু থেকে উৎপত্তি লাভ করেনি।বিগ ব্যাঙ কোন বোমার বিস্ফোরণ নয় যে এতে থাকা বস্তুগুলো চারিদিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে।বিগ ব্যাঙ্গ হল স্থান-কালের সম্প্রসারণ।এর কোন আদি বিন্দু নেই।

একটা আধফোলা বেলুনের গায়ে কয়েকটি ডট আঁকুন। এবার বেলুনটিকে আরও ফোলান।ডটগুলো পরস্পর থেকে দূরে সরে যাবে এবং বেলুনের তলটাও প্রসারিত হবে।মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ অনেকটা এরকম।কিন্তু মহাবিশ্ব আবার ঠিক ঐ বেলুনের মত বাঁকিয়ে এর প্রান্ত গুলো মিলে যায়নি। আমাদের পর্যবেক্ষণ যোগ্য মহাবিশ্ব সুষম এই অর্থে যে আপনি মহাবিশ্বের যে দিকেই তাকান গ্যালাক্সির ঝাঁকগুলো প্রায় একইরকম ভাবে বিন্যস্ত।

আমার বর্তমান অবস্থান থেকে পর্যবেক্ষণ যোগ্য মহাবিশ্ব যেমন, আমি টাইম মেশিনে চড়ে অন্য কোন নক্ষত্রে গেলেও পর্যবেক্ষণ যোগ্য মহাবিশ্ব একইরকম থেকে যায়।

আমি যদি এরকম কোন একটা টাইম মেশিনে চড়ে সোজা কোন এক দিকে রওনা দেই তবে কখনোই কোন ধার বা কিনারের দেখা পাবো না।মহাবিশ্বের কেন্দ্র বা ধার না থাকার ব্যাপারটা মানব মনে বোধগম্য হওয়াটা বেশ কঠিন।

ধরুন আপনি এক কিলোমিটারের চেয়ে বেশি দূরের কিছু দেখেন না।এখন আপনাকে পৃথিবীর যেখানেই নিয়ে যাওয়া হোকনা কেন আপনার দৃষ্টি সীমা ঐ এক কিলোমিটারই থেকে যাবে।ঠিক এমনিভাবে আমাদের সক্ষমতার দ্বারা পর্যবেক্ষণ যোগ্য মহাবিশ্বও সীমিত। এর বাইরে যা আছে তার তথ্য-উপাত্ত আমাদের হাতে নেই।

আমরা জানি আলো একটি নির্দিষ্ট বেগে চলে।কোন কিছু আমাদের পর্যবেক্ষণে আসতে হলে সেখান থেকে আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছাতে হয়।বিগ ব্যাং এর পর মূহুর্তে মহাবিশ্ব খুব দ্রুত প্রসারিত হতে থাকে।বর্তমানে এর প্রসারনের বেগ সেই তুলনায় কম।কিন্তু মহাবিশ্বের এমন অনেক বিন্দু আছে যেখান থেকে আলো আমাদের কাছে এসে পৌঁছাতে পর্যাপ্ত সময় পায়নি।এই বিন্দু গুলো আমাদের পর্যবেক্ষণ যোগ্য মহাবিশ্বের বাইরেই রয়ে গেছে।

সময় যত যাবে পর্যবেক্ষণ যোগ্য মহাবিশ্ব ততই বৃদ্ধি পাবে।কিন্তু মহাবিশ্ব যেহেতু এখনো সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং সবচেয়ে দূরের গ্যালাক্সি গুলো আলোর চেয়েও বেশি বেগে পরস্পরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই আমরা তাত্ত্বিকভাবে কখনও পুরো মহাবিশ্বের চিত্র পাবো না।আমাদের জানা মহাবিশ্বের প্রান্তের ওপারের খবর হয়তো আমরা কখনোই পাব না।

মহাবিশ্বের মৌলিক উপাদান কি কি,  মহাবিশ্ব সম্পর্কে অজানা তথ্য,  মহাবিশ্ব ও সৌরজগৎ,  মহাবিশ্ব কাকে বলে,  মহাবিশ্ব ও ছায়াপথ,  আমাদের গ্যালাক্সির নাম কি,  মহাবিশ্ব ও পৃথিবী,  মহাবিশ্ব কত বড়

লিখেছেনঃ জাহিদুল ইসলাম রিপন।

Leave a Reply